পুজোর সময় বিপদ বড় বালাই! মাথায় রাখুন হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সঙ্কেত
পুজো মানেই দিনভর হই-হুল্লোড়, সঙ্গে হরেকরকম খাওয়াদাওয়া। তবে, শুধুমাত্র আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলেই তো চলবে না, তারই মধ্যে শরীরের দিকেও খেয়াল রাখা বিশেষ জরুরি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রোজকার জীবনযাপনের মধ্যে হার্টের অসুখ একটা বড়সড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু বয়স্করা নন, তরুণদেরও আকছার কাবু করছে এই রোগ। এই সময়ে নিজের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেইকারণে আগে থেকেই বিপদ সঙ্কেতগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া দরকার।
১) শুধুই কি গ্যাস থেকে বুকে ব্যথা হয় ? শরীরে অনেক সময় এমন অনেক লক্ষণ দেখা যায়, যেগুলো উপেক্ষা করলেই বিপদ বাড়বে। বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি, ঘাম হওয়া-বহুক্ষেত্রেই হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা কয়েক মিনিটের জন্য থাকতে পারে এবং তা বিশ্রাম বা শারীরিক পরিশ্রমের সময়েও হতে পারে।
২) মহিলারা অনেকসময়ই বলেন, পেটে ব্যথা হচ্ছে। আবার মাথা ঘোরা বা হালকা মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও উপেক্ষা করা একদম ঠিক নয়। অনেক সময়ে এমন হতে পারে, আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন অথবা মাথা ঘুরছে। পাশাপাশি বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৩) হৃদরোগের একটি পরিচিত লক্ষণ হলো, বাঁ হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা। তাই হাতের ব্যথাকে মাসল্ পেইন ভেবে উপেক্ষা করলেই বিপদ বাড়বে। হৃদরোগের কারণে হাতে ব্যাথা হলে সেটি সাধারণত বুক থেকে শুরু হয়ে বাইরের দিকে ছড়িয়ে যায়। আবার বহু ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখা যায়, হার্টের সমস্যার কারণে শুধুমাত্র হাতেই ব্যথা হচ্ছে।
৪) হঠাৎ ক্লান্তির কারণ কি শুধুই কাজের চাপ? আগে যা অতি সহজেই করতে পারতেন, এখন সেটা করতে গিয়েই হাঁফিয়ে যাচ্ছেন– এই সমস্যাকে ভুলেও অবহেলা করবেন না। বিশেষত, মহিলাদের মধ্যে এই ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা যায়।
৫) রাতে জোরে জোরে নাক ডাকা, দম আটকে আসা বা হঠাৎ কাশি যা সহজে থামছে না, এই ধরনের লক্ষণগুলিও বহু ক্ষেত্রেই হার্টের সমস্যাকে ইঙ্গিত করে। সেইসঙ্গে যদি সাদা বা গোলাপি রঙের কফ বেরোয়, তাহলে বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৬) গরমে দীর্ঘক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা প্যান্ডেল হপিং করলে ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখবেন, যদি অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাহলে সেটি হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাকের সময় শরীর খুব রেস্টলেস বা অস্থির হয়ে পড়ে, বুকে ব্যথা হয়, তাই তখন অস্বাভাবিক বা প্রচণ্ড রকমের ঘাম হয়।
৭) পুজোর আগে থেকেই টানা হাঁটাহাঁটির ফলে পা ফুলতে থাকে। কিন্তু আপনাকে বুঝতে ঠিক কী কারণে সমস্যা হচ্ছে...অনেক সময়ে হার্টের সমস্যা থাকলে পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফুলে যায়। কারণটা হল হৃৎপিণ্ড সঠিক ভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না। যাকে আমরা হার্ট ফেইলিওর নামে জানি।
উৎসবের মাঝেও সচেতনতা দরকার। পুজোয় আনন্দে মেতে উঠুন, কিন্তু সুস্থভাবে থাকতে হলে শরীরের এই ছোট ছোট লক্ষণগুলির দিকে নজর দিতেই হবে আপনাকে। উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলো নজরে এলে বা কোনও রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।





